Subscribe Us

মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ

 madhusudan dutta abong tar rochito kabya

মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ :

জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি।

জন্মপরিচিতি সম্পর্কে মধুসূদন দত্ত নিজেই লিখেছেন

দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!

যশোরে সাগরদাঁড়ি কবতক্ষ তীরে

জন্মভূমি, জন্মদাতা দত্ত মহামতী

রাজনারায়ণ নামে, জননী জাহ্নবী

পিতা রাজনারায়ণ দত্ত, ছিলেন আইন ব্যবসায়ী এবং যশোরের খ্যাতিনামা জমিদার। ফরাসী ভাষায় অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনিমুন্সী রাজনারায়ণনামে পরিচিত ছিলেন।

মাতা জাহ্নবী দেবী।

শিক্ষা জীবন বাল্যকালে মায়ের তত্ত্বাবধানে গ্রামের পাঠশালায় তাঁর লেখাপড়া শুরু হয়।

বছর বয়সে কলকাতায় এলে তিনি খিদিরপুর গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন এবং এই বিদ্যালয়ে ইংরেজি এবং ল্যাটিন ভাষার সাথে তাঁর পরিচয় ঘটে।

১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হিন্দু কলেজের জুনিয়ার বিভাগে ভর্তি হন।

তারপর তিনি ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দু কলেজের উচ্চতর বিভাগে ভর্তি হন এবং এই সময় তিনি ভূদেব মুখোপাধ্যায়, গৌরদাস বসাক প্রমুখদের সহপাঠী হিসেবে পান। এই কলেজে দ্বিতীয় বিভাগে পড়ার সময়স্ত্রী শিক্ষা বিষয়কপ্রবন্ধ রচনা করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করে শিবপুর বিশপস্ কলেজে ভর্তি হন এবং আখানে বছর শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি সংস্কৃত, গ্রিক ল্যাটিন ভাষায় পণ্ডিত হয়ে উঠেন।

কর্মজীবন ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে চেন্নাই গিয়ে তিনি শিক্ষকতার পেশায় নিযুক্ত হন এবং সাথে সাথে বিভিন্ন ইংরেজি পত্র পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন।

তারপর তিনি ‘Spectator’ পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক রূপে কাজ করেন।

১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি পুলিশ আদালতে চাকরি নেন।

১৮৬৭ খ্রিষ্টাব্দে বিদেশ (ইংল্যান্ড) থেকে স্বদেশে ফিরে কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসেবে নিযুক্ত হন।

দাম্পত্য জীবন কবির দুই পত্নী। প্রথম পত্নী ইংরেজ কন্যা রেবকা ম্যাকটেভিয়াস। প্রথম পত্নীর সাথে কবির বিবাহ বিচ্ছেদ হলে তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন। কবির দ্বিতীয় পত্নী এমিলিয়া হেনরিয়েটা সোফিয়া।

মৃত্যু ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ শে জুন কলকাতার জেনারেল হসপিটালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুর পূর্বে মধুকবি নিজ হাতে সমাধি লিপি লিখে রেখে যান

দাঁড়াও পথিক বড়, জন্ম যদি তব

বঙ্গে তিষ্ঠ ক্ষণকাল, সমাধিস্থলে।

জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি

বিরাম, মহীর কোলে মহানিদ্রাকৃত

দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন

 

 

  • কবি মধুসূদন বাংলা কাব্য জগতে মাত্র বছর (১৮৬০-৬৬) যুক্ত ছিলেন। তাই কবিকেক্ষণিকের অতিথি কবিবলা হয়।

  • সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কবি মধুসূদন দত্ত সম্পর্কে বলেছেন

এই প্রাচীন দেশে দুই সহস্র বৎসরের মধ্যে কবি এক জয়দেব গোস্বামী। জয়দেব গোস্বামীর পর শ্রীমধুসূদন অবনতাবস্থায় বঙ্গমাতা রত্নপ্রসবিনী। সুবপন বহিতেছে; দেখিয়া জাতীয় উড়াইয়া দাও। তাহাতে নাম লেখ শ্রীমধুসূদন

  • ১৮৪৮ থেকে ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে মধ্যে মধুসূদন দত্ত মাদ্রাজ থেকেMadras Circulatorপত্রিকায়Timothy Penpoemছদ্মনামেVision of the PastএবংThe Capative Ladieশীর্ষক কাব্যে পৃথ্বীরাজ সংযুক্তার কাহিনি বর্ণনা করেন।

পরে ১৮৪৯ খ্রিষ্টাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

  • মধুসূদন দত্তের প্রথম বাংলা সনেট কবি মাতৃভাষা”, ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দেতত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

  • মধুসূদন দত্তের বাংলা ভাষায় প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব”, অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। কাব্যগ্রন্থ টি ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।

  • মধুসুদন দত্তের হাতেই বাংলা সাহিত্যে প্রথম ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দেচতুর্দশপদী কবিতাবলী জন্ম।চতুর্দশপদী কবিতাবলীকবির প্রবাস জীবনের এক উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

  • বাংলা ভাষার প্রথম আধুনিক গীতিকবিতা আত্মবিলাপকবি মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে রচনা করেন। গীতিকবিতা টিতত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর কবির কাছেতত্ত্ববোধিনী পত্রিকা জন্য একটি ব্রহ্মসঙ্গীত চাইলে, মধুকবি এই গীতিকবিতা টি লিখে পাঠান। 

  • ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দেসোমপ্রকাশ পত্রিকা কবিরবঙ্গভূমির প্রতিগানটি প্রকাশিত হয়। ইংল্যান্ড যাত্রা উপলক্ষে কবি এটি রচনা করেন।


মধুসূদন দত্তের রচিত ইংরেজি কাব্য :

1. The Capitive Ladie 1849

2. Vision of the Past 1849.

 

মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা কাব্যগ্রন্থ :

১। তিলোত্তমাসম্ভব ১৮৬০

২। ব্রজাঙ্গনা কাব্য ১৮৬১

৩। মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১

৪। বীরঙ্গনা কাব্য ১৮৬২

৫। চতুর্দশপদী কবিতাবলী ১৮৬৬

 

মধুসূদন দত্তের উৎসর্গকৃত কাব্যগ্রন্থ :

১। তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর।

২। মেঘনাদবধ কাব্য দিগম্বর মিত্র।

৩। বীরাঙ্গনা কাব্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।


মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগুলি সম্পর্কে আলোচনা :

“তিলোত্তমাসম্ভব” (১৮৬০)

কবির প্রথম বাংলা কাব্যগ্রন্থ

কবির সৃষ্ট অমিত্রাক্ষর ছন্দে কাব্যগ্রন্থ টি রচিত।

এই কাব্যগ্রন্থ টি টি সর্গে রচিত। প্রথম দুটি সর্গ রাজেন্দ্রনাথ মিত্রের বিবিধার্থ সংগ্রহপত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

কবি এই কাব্যগ্রন্থ টি যতীন্দ্রমোহন ঠাকুরের প্রেরণায় রচনা করেন। তাই এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি যতীন্দ্রমোহন ঠাকুর কে উৎসর্গ করেন।

সংস্কৃত পুরাণ মহাভারতের আদি পর্বের কাহিনি অবলম্বনে কবি এই কাব্য টি রচনা করেন।

কবি এই কাব্যের আখ্যান পত্রে ভবভূতির সংস্কৃত শ্লোকের উদ্ধৃত করেছেন।

এই কাব্যগ্রন্থের আলোচনা প্রসঙ্গে অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন

প্রথমেই মাইকেল যে অচল অটল শুভ্রসমুজ্জ্বল ধবলগিরির উত্তুঙ্গ শৈলচূরার চিত্র অঙ্কন করলেন, বাংলা সাহিত্যে তা অভিনব। এর প্রথম কয়েক ছত্রেই সে যুগের রসিক নবীন পাঠক বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলা কাব্যে নতুন প্রতিভার উদয় হয়েছে, যা দলছাড়া, কুলহারা-একক মহিমায় আসীন” (বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত)

 

“ব্রজাঙ্গনা কাব্য” (১৮৬১)

ভূদেব মুখোপাধ্যায় একদা কবিকে অনুরোধ করেন

ভাই, তুমি ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণের বংশীধ্বনি করিতে পার।

মধুকবি ব্রজেন্দ্রনন্দনের বংশীধ্বনি করেছেনব্রজঙ্গনাকাব্যে।

কাব্যগ্রন্থ টি ১৮৬১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রথমে এই কাব্যগ্রন্থের নাম ছিলরাধাবিরহ তবে এইরাধাবিরহকবির পরিকল্পিতব্রজাঙ্গনাকাব্যের প্রথম সর্গ।

কবির ইচ্ছে ছিল টি সর্গে কাব্যগ্রন্থ টি সমাপ্ত করবেন কিন্তু সময়াভাবে দ্বিতীয় সর্গ টি লেখার অবকাশ তিনি পাননি।

এই কাব্যগ্রন্থে সর্বমোট ১৮ টি পদ রয়েছে।

পয়ার এবং ত্রিপদী ছন্দে কাব্য টি রচিত।

রাধাকৃষ্ণ সংক্রান্ত কাহিনি অবলম্বনে ইতালির  “লিরিক্যাল ওডেরঅনুসরণে কবি এই কাব্য টি রচনা করেন।

এই কাব্যের শিরোদেশে কবিপদাঙ্কদূতনামক দূতকাব্য থেকে শ্লোকাংশ উদ্ধৃত করেছেন।

সুকুমার সেন ব্রজাঙ্গনাকাব্যের রাধা সম্পর্কে লিখেছেন

হৃদয় পাশে বন্দিনী হইয়া যে নারী অদৃষ্টের নির্যাতন সহিয়াছে, সেই নারীই মধুসূদনের কাব্য-নাটকের নায়িকা……

ব্রজাঙ্গনাকাব্যের আঙ্গিক রীতি সম্পর্কে সুকুমার সেন বলেছেন

ব্রজাঙ্গনা ভাষা সহজ, যেমনটি উচিত। ভাব বস্তুনিষ্ঠ, যেমন মধুসূদনের অপর সব কাব্যে। সবচেয়ে লক্ষণীয় হইল ছন্দ। …… বাঙ্গালায় প্রথমওডঅর্থাৎ স্তবকবদ্ধ, অসমচরণ লিরিক কবিতা বলিয়াওব্রজাঙ্গনা ঐতিহাসিক মূল্য আছে।

 

“মেঘনাদবধ কাব্য” (১৮৬১)

কবি মধুসূদন দত্তের অমর সৃষ্টি এই কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা মহাকাব্য ধারার প্রথম প্রধান সৃষ্টি।

১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। প্রথম খণ্ডে ছিল প্রথম থেকে পঞ্চম সর্গ।

দ্বিতীয় খণ্ড টি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দের  জুন মাসে। ষষ্ঠ থেকে নবম সর্গ এই খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পরে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় টি খণ্ড একত্রে সম্পাদনা করে ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশ করেন।

এই কাব্যের কাহিনির ঘটনাকাল দিন এবং রাত্রি।

এই কাব্যগ্রন্থের মূলরস সম্পর্কে কবি নিজেই লিখেছেন

গাইব মা, বীররসে ভাসি মহাগীত

তবে কাব্যের বেশিরভাগ অংশ জুরে রয়েছে করুণরস।

মধুসূদন দত্তের জীবনীকার যোগীন্দ্রনাথ বসু এই বিষয়ে লিখেছেন

অনেকে মেঘনাদবধ কাব্যকে বীররস-প্রবল বলিয়াই অবগত আছেন, কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে মেঘনাদবধে বীররস অপেক্ষা করুণরসেরই প্রাধান্য

কাব্যগ্রন্থ টি মোট টি সর্গে বিভক্ত। সর্গগুলি হল

১। অভিষেক আরম্ভ হয়েছে রাবণের অন্যতম বীরপুত্র বীরবাহুর মৃত্যু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এবং শেষ হয়েছে মেঘনাদের সৈন্যাপত্যবরণে।

২। অস্ত্রলাভ মূল বিষয় শিবের আনুকূল্যে রামচন্দ্রের মেঘনাদ বধের উপায় জানা এবং অস্ত্রসম্ভার প্রাপ্তি।

৩। সমাগম মূল বিষয় প্রমোদ উদ্যান থেকে প্রমীলার লঙ্কা প্রবেশ।

৪। অশোকবন মূল বিষয় সীতার মুখে তাঁর সুখ দুঃখের কাহিনি এবং যুদ্ধের কারন পরিনতি প্রবন।

৫। উদ্যোগ মূল বিষয় লক্ষ্মণ কর্তৃক লঙ্কার উত্তর দুয়ারে চণ্ডীর অর্চনা এবং দেবীর আদেশে ইন্দ্রজিৎ বধের জন্য যাত্রা এবং ওদিকে মেঘনাদের যজ্ঞাগারে আগমন।

৬। বধ মূল বিষয় মেঘনাদ বধ।

৭। শক্তিনির্ভেদ মূল কাহিনি রাবণের প্রতিশোধ গ্রহণ তথা পুত্র হন্তা লক্ষ্মণ কে শক্তিশেলে পাতন।

৮। প্রেতপুরী রামের প্রেতপুরী তে গমন এবং সেখানে দশরথের কাছ থেকে লক্ষ্মণের জীবনলাভের উপায় জানা।

৯। সংস্ক্রিয়া মূল বক্তব্য মেঘনাদের শ্মশানকৃত্য প্রমীলার সহমরণ এবং শোকার্ত হৃদয়ে রাবণের লঙ্কায় আগমন

সপ্ত দিবানিশি লংকা কাঁদিলা বিষাদে

এই কাব্যগ্রন্থে মেঘনাদ কে প্রত্যক্ষভাবে পাওয়া যায় টি সর্গে প্রথম, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ সর্গে।

ষষ্ঠ সর্গে মেঘনাদ কে বধ করার ঘটনা লেখার পর কবি মধুসূদন তাঁর মনের কথা রাজনারায়ণ বসু কে জানিয়েছেন

“It cost me many a tear to kill him”.

এই কাব্যগ্রন্থ টি কবি উৎসর্গ করেন দিগম্বর মিত্র কে।

জগবন্ধু ভদ্র ছুছুন্দরীবধ কাব্যনামেমেঘনাদবধ কাব্যে প্যারডি রচনা করেন। ১২৭৫ বঙ্গাব্দের 'অমৃতবাজার পত্রিকা'য় আশ্বিন সংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়। এই প্যারডি পড়ে স্বামী বিবেকানন্দ ক্ষুণ্ণ হন এবং প্যারডিটির সমালোচনা করেন


বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২)

বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম সার্থক পত্রকাব্য

কবি এই কাব্যগ্রন্থ টি উৎসর্গ করেন বঙ্গকুলচূর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে।

এই পত্রকাব্যে কবি ওভিদের ঋণ স্বীকার করেছেন।

ইতালিও কবি ওভিদেরHeroidesকিংবাEpistles of Heroinsপত্রকাব্য অনুসরণে কবি তাঁর এই কাব্য টি রচনা করেছেন।

এই পত্রকাব্যে কেবলমাত্র নায়িকাদের পত্র স্থান পেয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থে অমিত্রাক্ষর ছন্দের সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে।

কবি এই কাব্যগ্রন্থে ২১ টি পত্র লেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু কবি ১১ টি পত্র রচনা করেন। পত্রগুলি হল

১। দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা

২। সোমের প্রতি তারা

৩। দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী

৪। দশরথের প্রতি কেকয়ী

৫। লক্ষণের প্রতি সূর্পনখা

৬। অর্জুনের প্রতি দ্রোপদী (বৃহত্তম পত্র)

৭। দুর্যোধনের প্রতি ভানুমতী

৮। জয়দ্রথের প্রতি দুঃশলা

৯। শান্তনুর প্রতি জাহ্নবী (ক্ষুদ্রতম পত্র)

১০। পুরুরবার প্রতি ঊর্বশী

১১। নীলধ্বজের প্রতি জনা

এই কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত বলেছেন

পরিকল্পনার অভিনবত্বে, ভাবের ঐশ্বর্যে, ভাষা ছন্দের ওজস্বিতা মাধুর্যে এই কাব্যগ্রন্থখানি বাংলা সাহিত্যে অতুলনীয় (মধুসূদন : কবি নাট্যকার, ৩য় সংস্করণ ১৩৮০ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা ১০৭)

 

“চতুর্দশপদী কবিতাবলী” (১৮৬৬)

এটি কবির শেষ কাব্যগ্রন্থ।

বাংলাচতুর্শপদী কবিতাবলী জন্মদাতা হলেন কবি মধুসূদন।

ফ্রান্সে থাকাকালীন পাশ্চাত্য সনেটের আদর্শে তিনি এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি রচনা করেন।

কবির রচিত সনেটে পেত্রাকীয় এবং শেক্সপীয়রীয় রীতির সমন্বয় ঘটেছে।

কবির প্রবাস জীবনের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম এই কাব্যগ্রন্থ।

রাজনারায়ণ বসুর কাছে তিনি একটি চিঠিতে লিখেছিলেন

I want to introduce the sonnet into our language”.

শশাঙ্কশেখর বাগচি সনেটের যে প্রামান্য সংস্করণ সম্পাদনা করেছেন তার মধ্যে মধুসূদন দত্তের ১১০ টি সনেট বর্তমান।

কবির এই সনেটগুলি একাধারে কবিতা এবং একাধারে কবি চেতনার ইতিহাস। তাই সুকুমার সেন বলেছেন

দেশের আকাশ-বাতাস-গন্ধ-স্পর্শের জন্য ব্যাকুল মধুসূদনের মনোবেদনার রেশ চতুর্দশ পদাবলীর মধ্যে ঘনীভূত (বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস)


আরও পড়ুন :


To join our FB Page - CLICK HERE.

Post a Comment

0 Comments